বইয়ের প্রচ্ছদ দ্য ফল অ্যান্ড রাইজ অব দ্য ইসলামিক স্টেট—নোআহ ফেল্ডম্যান, প্রিন্সটন: প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৮। পটভূমি ৯/১১ ও ২০১১-পরবর্তী পশ্চিম এশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত বিভিন্ন দেশে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক মতবাদ হিসেবে গণতন্ত্রের প্রসার ঘটলেও মানচিত্রের এই অংশ দীর্ঘদিন ধরে ছিল স্বৈরশাসনের অধীন। ২০১১-পরবর্তী বিভিন্ন দেশে স্বৈরশাসনের পতনের পর নতুন শাসনব্যবস্থা কী হবে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে রয়েছে নানা মতবাদ। আফগানিস্তান ও ইরাকে গণতন্ত্র ব্যর্থ হওয়ায় পশ্চিমা শক্তিরা বুঝতে পেরেছে যে এই ভূখণ্ডে উদারবাদী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সময় এখন নয়। উপরন্তু এই দেশগুলোর জনগণের মধ্যে ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থন রয়েছে। এমতাবস্থায় এই দেশগুলোতে নতুন এক মতবাদের প্রবর্তন দেখা যাচ্ছে, যা গণতন্ত্র ও ইসলামবাদের একটি মিশ্রণ। এই মতবাদকে বলা হচ্ছে ‘ইসলামবাদ’ বা ‘রাজনৈতিক ইসলাম’। বর্তমানে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান মূলত এই ‘ইসলামবাদ’ মতবাদের আলোকে। নোআহ ফেল্ডম্যান দ্য ফল অ্যান্ড রাইজ অব দ্য ইসলামিক স্টেট বইটিতে মূলত এই মতবাদের প্রতি সমর্থন রেখে আলোচনা করেছেন। ফেল্ডম্যান মনে করেন, ইসলাম ও গণতন্ত্র সংগতিপূর্ণ। শরিয়তের গণতন্ত্রায়ণ ও সাংবিধানিকীকরণ করে যথার্থ প্রতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র কার্যকর করা সম্ভব। লেখক বইটিতে বিভিন্ন যুক্তি ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে বলেছেন কীভাবে এই নতুন ইসলামি রাষ্ট্র সফলতা লাভ করতে পারে। মার্কিন নাগরিক নোআহ ফেল্ডম্যান একজন লেখক ও একাধারে হার্ভার্ড ল স্কুলের আইন বিষয়ের অধ্যাপক। তিনি নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনের লেখক ও কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স-এর সিনিয়র ফেলো। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতক, ইয়েল থেকে আইন ও অক্সফোর্ড থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৩ সালে তিনি জ্যেষ্ঠ সাংবিধানিক উপদেষ্টা হিসেবে ইরাকে ‘কোয়ালিশনাল প্রভিশনাল’ কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করেন। তিনি একই সঙ্গে ইরাকের নতুন সংবিধান লেখার উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ফেল্ডম্যান কর্তৃক প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো: আফটার জিহাদ: আমেরিকা দ্য স্ট্রাগল ফর ইসলামিক ডেমোক্রেসি (২০০৩), হুয়াট উই ও ইরাক: ওয়ার অ্যান্ড দ্য এথিকস অব নেশন বিল্ডিং (২০০৪), ডিভাইডেড বাই গড: আমেরিকাস চার্চ—স্টেট প্রবলেম অ্যান্ড হুয়াট উই শুড ডু অ্যাবাউট ইট (২০০৫), দ্য ব্যাটেলস অ্যান্ড ট্রিয়াম্পস অব এফডিআর’স গ্রেট সুপ্রিম কোর্ট জাস্টিসেস (২০১০) এবং কুল ওয়ার: দ্য ফিউচার অব গ্লোবাল কম্পিটিশন (২০১৩)।১ ফেল্ডম্যান একজন অ-ইহুদি নারীকে বিয়ে করার জন্য সনাতনী ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিন্দিত।২ তিনি আরব বিশ্বের ইসলামপন্থীদের প্রতি নমনীয় দৃষ্টি রেখেছেন। তিনি মনে করেন, এই ভূখণ্ডে গণতন্ত্র কায়েমে ইসলামপন্থীরাই একমাত্র ভরসা।৩ তিনি তাঁর এমন ধারণার জন্য বিশ্বজুড়ে সমালোচিত। এত সমালোচনার পরও ফেল্ডম্যান সমাদৃত। নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন ফেল্ডম্যানকে একজন নতুন ধারার প্রভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মার্কিন পত্রিকা/সাময়িকী ইস্কয়ার তাদের ২১ শতকের সর্বাধিক প্রভাবশালী মানুষের তালিকায় ফেল্ডম্যানকে ‘আমাদের সময়ের একজন বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সরকার ও রাজনীতিতে কৃতিত্ব রাখার জন্য ফেল্ডম্যান দ্য ফল অ্যান্ড রাইজ অব দ্য ইসলামিক স্টেট বইটির জন্য ২০০৮ সালে ‘প্রোজ’ (Prose Award) পুরস্কার পান। ২০১২ সালে লেখক বইটিতে একটি নতুন সূচনা যোগ করেন, যেখানে তিনি ইসলামবাদের উত্থান বর্ণনা করেছেন, আলোকপাত করেছেন ২০১১-পরবর্তী আরব বিশ্বে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক ইসলামবাদে বিশ্বাসী বা ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনসমর্থন সম্পর্কে। ১৩০০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম থেকেছে। এর অবসান বা পতন ঘটেছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে। নোআহ ফেল্ডম্যান ১৩০০ বছরের ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসানকে ‘ইসলামি রাষ্ট্রের পতন’ ও ৯/১১ ও ২০১১-পরবর্তী শরিয়ত আইনের প্রতি জনসমর্থনকে ‘ইসলামি রাষ্ট্রের উত্থান’ হিসেবে আখ্যা করেছেন। পতনের আগের ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে তিনি বলছেন, ‘ট্র্যাডিশনাল বা ক্লাসিক্যাল ইসলামিক স্টেট’ (traditional/Classical Islamic State) বা ‘ঐতিহ্যিক/ধ্রুপদি ইসলামি রাষ্ট্র’ এবং বর্তমানে সাংবিধানিক গণতন্ত্রের সংমিশ্রণে যে শরিয়ত আইন প্রণয়নের ব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে তাকে লেখক বলছেন, 'Political Islam ও 'Islamism' বা ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ ও ‘ইসলামবাদ/ইসলামবাদিতা’। এই আধুনিক রাজনৈতিক ইসলামের মতাদর্শে বিশ্বাসী এই ধারার প্রবর্তকদের বলেছেন, 'Islamic Democrats' ও 'Islamists' বা ‘ইসলামি গণতন্ত্রবাদী’ বা ‘ইসলামপন্থী গণতন্ত্রবাদী’ ও ‘ইসলামপন্থী’। নোআহ ফেল্ডম্যান দ্য ফল অ্যান্ড রাইজ অব দ্য ইসলামিক স্টেট বইটি তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করে লিখেছেন। প্রথম অধ্যায়ে লেখক পতন-পূর্ববর্তী অর্থাত্ ১৩০০ বছর ধরে যে ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা চলেছে অর্থাত্ ‘ঐতিহ্যিক বা ধ্রুপদি ইসলামি রাষ্ট্র’ তার শক্তিশালী দিকগুলো তুলে ধরেছেন। লেখক এই ব্যবস্থার বর্ণনা করে বলেছেন কী কী কারণে এই ব্যবস্থার স্থায়িত্ব এত দিন ছিল। এ ব্যবস্থায় ‘খিলাফত প্রথা’র মাধ্যমে শাসনকাজ পরিচালিত হতো। আইনের যথার্থ প্রয়োগ ও বিচারের জন্য খলিফা ও আইনি বিচারক ও জনগণের মাঝে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য ছিল 'Scholors' বা ‘ধর্মীয় পণ্ডিত/ধর্মগুরু’। ১৯০০ শতকে অটোম্যান শাসনব্যবস্থার অধীনে এ ব্যবস্থার বিনাশ ঘটে। রাজনৈতিক সংস্কারের নামে ধর্মগুরুদের কার্যকারিতা কমিয়ে খলিফাদের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাতে ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার স্থায়িত্বের যে মূল কারণটি ছিল—ক্ষমতার ভারসাম্য, তা ভেঙে যায় এবং এ ব্যবস্থা পতনমুখী হয়। বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে লেখক ক্লাসিক্যাল ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা পতনের কারণগুলো ব্যাখ্যা করেছেন। তৃতীয় অধ্যায় ফেল্ডম্যান ব্যাখ্যা করেছেন বর্তমান ইসলামবাদিতার ধারণা ও তার উত্থান সম্পর্কে। ১. ৯/১১-পরবর্তী বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন পেয়েছে। তুরস্কে ‘টার্কিশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ বা একেপি সর্বাধিক ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে, যারা আদর্শগত দিক থেকে ইসলামি চেতনায় উদ্বুদ্ধ।৪ আফগানিস্তানে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা সরকার একটি সাংবিধানিক ‘লয়া জিরগা’ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে, যাতে ইসলামি ও গণতান্ত্রিক উভয় আদর্শের প্রতিফলন আছে।৫ বাগদাদেও দেখা যায় জনসমর্থন আছে এমন একটি সাংবিধানিক পথের, যা ইসলাম ও গণতন্ত্র দুইয়ের মিশ্রণে তৈরি।৬ ২০১১-পরবর্তী ‘আরব বসন্তের’ পরও দেখা যায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে ‘ইসলামাবাদিতা’ বা ‘ইসলামি গণতন্ত্রবাদীরা’ জনসমর্থন অর্জন করছে। তিউনিসিয়ার স্বৈরশাসক বেন আলীর দুর্নীতির প্রতিবাদে এক ফলবিক্রেতা তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ করেন। তারপর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিক সমিতি ও মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণদের মাধ্যমে। দেশের মিলিটারি জনগণের সঙ্গে একাগ্রতা প্রকাশ করে এবং বেন আলী শাসনের অবসান ঘটে। এই পুরো আন্দোলনে ইনাহদা—ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের কোনো ভূমিকা ছিল না। রশিদ ঘানৌচি, ইনাহদা দলের প্রতিষ্ঠাতা, ২০ বছর ধরে তাঁর পরিবারসহ লন্ডনে নির্বাসনে ছিলেন।৭ অথচ আন্দোলনের পর গণতন্ত্রের পথযাত্রায় জনগণের সর্বাধিক ভোট যায় ইনাহদা দলের প্রতি। ২০১১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে দলটি ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে সর্বোচ্চ জনসমর্থন অর্জন করে।৮ তিউনিসিয়ার পরপরই মিসরে শুরু হয় শাসনব্যবস্থা ও সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন। আন্দোলন বেগবানের অপরাধে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’কে (মিসরে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল) অভিযুক্ত করা হলেও তারা তা অস্বীকার করে।৯ নভেম্বর ২০১১ সালের সংসদীয় নির্বাচনে বিপুল ভোট অর্জন করে ক্ষমতায় আসে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ এবং একই বছর ব্যাপক ভোট অর্জন করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন একই দল থেকে। আরব বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও ‘আরব বসন্ত’ বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন এনেছে। মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ার শাসন ইসলামপন্থী ও সামরিক বাহিনীর মাঝে দোদুল্যমান। ইয়েমেনে ‘আরব বসন্তের’ হাওয়ায় ২০১১ সালের প্রথমার্ধে আন্দোলন দেখা দেয়, যার নেতৃত্ব দেয় তাওয়াকেল কারমান। কারমান ইসলাহ দলের সদস্য, যার সংযোগ রয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুডের ইয়েমেন অংশের এবং আহমার গোষ্ঠীর সঙ্গে। সিরিয়ায় আরব বসন্তের আন্দোলনের ছোঁয়া লাগলেও এর গতি মন্থর। বিদ্যমান আসাদ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা মূলত সুন্নি মুসলমান, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ (৬০ শতাংশ) জনগোষ্ঠী। সিরিয়ার আন্দোলন সফলতা না পাওয়ার পেছনের কিছু কারণের মধ্যে একটি হলো বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা সংখ্যালঘু কিছু গোষ্ঠীর সহায়তা লাভ করেছে, যাদের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নি মুসলমানদের ক্ষমতায় আসা খুব লাভজনক হবে না।১০ মরক্কোর রাজতন্ত্রও এই বসন্তের বাইরে থাকতে পারেনি। যদিও রাজতন্ত্রের পতনও হয়নি। জনগণ যখন সংস্কারের আন্দোলন শুরু করে, রাজা মুহাম্মদ-৬ তখন অন্যান্য স্বৈরশাসকদের মতো (মিসর, লিবিয়া, বাহরাইন, সিরিয়া) বলপ্রয়োগে তা দমন না করে আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে কিছুটা আপস করেন। রাজা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে মরক্কোর সবচেয়ে বড় বিরোধী দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগ করে নেন। একজন ইসলামপন্থীকে প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন করা হয় এবং আন্দোলনকারীরাও সংস্কারে সন্তুষ্ট থাকে।১১ অপর এক রাজতন্ত্র জর্ডানে মরক্কোর মতোই দ্রুত এবং দায়িত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আন্দোলন প্রতিহত করেছে সেই দেশের রাজা এবং শাসন ও আসন দুই-ই রক্ষা করেছে। জর্ডানে আন্দোলনের ধরনও ছিল ভিন্ন, মূলত সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমকেন্দ্রিক। তবে রাজধানী আম্মানে কিছু সংস্কারপন্থীদের আন্দোলন হয়েছে।১২ জর্ডানের আন্দোলনকারীরা মূলত সংস্কারের দাবি করে, তারা শাসক বা শাসনব্যবস্থা পতনের আন্দোলন করেনি। সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের দেশ জর্ডানে জনগণ যখন সংসদীয় নির্বাচনের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১০-এ, রাজা আবদুল্লাহ, আন্দোলনকারীদের দাবি রক্ষার্থে সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন করে সংসদ গঠন করে।১৩ ভিন্ন পরিস্থিতির উদ্ভব হয় অপর এক রাজতন্ত্র বাহরাইনে। এখানে শিয়া জনগোষ্ঠী সুন্নি শাসক দ্বারা শাসিত হয়ে আসছে। প্রাথমিকভাবে আন্দোলন সংস্কারের জন্য হলেও সরকার তা দমনে বলপ্রয়োগ করে। তাতে আন্দোলনের মাত্রা বেড়ে যায়। সৌদি আরবের সাহায্যে এক হাজার সৌদি সশস্ত্র বাহিনী এসে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে বুঝিয়ে দেয় যে মানচিত্রের আরব উপসাগরীয় অংশে আরব বসন্তের স্থান নেই।১৪ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে ৯/১১ বা ২০১১-পরবর্তী আন্দোলন ও শাসন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেখা যায়, জনগণের মাঝে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জনগণ চায় স্বৈরশাসনের পতন। স্বৈরশাসনের পতনের পর কী ধরনের শাসন আসবে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন মতবাদ। এই দেশগুলোতে জনমনে রয়েছে ইসলামের প্রতি নমনীয়তা। আবার জনগণ চায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং উন্নয়ন। এসব দেশে রাজনৈতিক দল বলতে ইসলামপন্থী দলগুলো সক্রিয়। ইসলামপন্থী দলগুলো দেশে শরিয়ত আইন প্রতিষ্ঠা করার কথা বলে। বইটিতে লেখক এই ইসলামপন্থী দলগুলোর সক্রিয়তা ও ইসলামি রাষ্ট্রের প্রতি জনসমর্থনের কারণ খুঁজতে আলোকপাত করেছেন ইসলামি রাষ্ট্রের অতীত ইতিহাসের ওপর। ২. মুসলমানদের কাছে ইসলামি রাষ্ট্র কোনো অতীত ইতিহাস নয় বরং একটি বর্তমান বিষয়, যা থেকে ভবিষ্যত্ নির্ধারণ হবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটলেও ইসলামি চেতনা মানুষের মাঝে উজ্জীবিত ছিল, যার মূল চালিকা মুসলিম ব্রাদারহুড বলে উল্লেখ করেছেন লেখক। ইসলামি রাষ্ট্রের ধারণা, যা পূর্ববর্তী প্রজন্ম প্রত্যাখ্যান করেছে তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে এত জনপ্রিয় কেন, তা জানতে লেখক ইসলামি রাষ্ট্রের ইতিহাসে আলোকপাত করেছেন। ইসলামি রাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা ও স্থায়িত্বের কারণ হিসেবে লেখক দুটি বিষয় চিহ্নিত করেছেন—আইনের শাসন ও ক্ষমতার ভারসাম্য। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময়কাল থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত ১৩০০ বছর, ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েম ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ফেল্ডম্যান ইসলামি শাসনব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিয়েছেন— শরিয়ত আইন ইসলামি রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। এই শরিয়ত আইনের দুটি উত্স। কোরআন ও হাদিস। কোরআন ও হাদিসের আলোকে পরিস্থিতি অনুযায়ী আইন প্রণয়ন হবে। এই আইনের ব্যাখ্যা দেবেন ইসলামি ধর্মগুরু বা পণ্ডিতগণ। কেউ এই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। একজন শাসক বা খলিফা স্রষ্টা প্রদত্ত আইন দ্বারা শাসন করবেন। খলিফাও আইনের শাসনের বাইরে নয় (ফেল্ডম্যান- পৃ.